সফল দলনেতা হবার উপায় গুলো

0
8695

আপনি একটি দলের দলনেতা হিসেবে আছেন অথবা কোম্পানির CEO অথবা প্রতিষ্ঠানের এমন একটি অবস্থানে যেখানে আপনার অধিনস্থদের আপনার নির্দেশনায় কাজ করতে হয়, সেখানে এরকম একটি অবস্থানে দলনেতা হিসেবে আপনার নিজস্ব কিছু দায়বদ্ধতাও থাকে। একজন দলনেতা শুধু দিক নির্দেশনাই দিবেন আর অধীনস্থরা তা মেনে কাজ করবেন, সবসময় কিন্তু প্রতিষ্ঠান বা দলের দৃশ্যপট  এরকম হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অধীনস্থদের দলনেতাদের প্রতি ক্ষোভ কাজ করে যে, তাদের দলনেতা শুধু দিকনির্দেশক হিসেবেই আছেন কিন্তু একজন সফল দলনেতার কাজ কিন্তু শুধু নির্দেশক হিসেবে নয়। সাথে রয়েছে আরো অনেক দায়িত্ব।

নিওরোসায়েন্টিস্ট Tara Swart এর মতে, একজন দলনেতাকে সবসময় তার কর্মক্ষমতার শীর্ষে থাকতে হবে। এছাড়া নিওরোসায়েন্সকে ব্যবসায়ে সংযুক্ত করে শীর্ষ অবস্থান অর্জন করেছে অসংখ্য সফল দলনেতারা। Swart এর মতে, দলনেতারা তাদের ভাবনাগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। আর দলনেতা সাধারণত যা ভেবে থাকেন সেগুলোর বাস্তবায়ন করে থাকেন আর সেইসব ধারণার বাস্তবায়িত দিকগুলো সহজেই পরিমাপ করা যায়। অপদিকে দলননেতাদের আচার আচরণের সর্বোচ্চ ব্যবহারকে কিন্তু পরিমাপ করা সম্ভব না। তার মানে একজন দলনেতা হিসেবে আপনার আচরণকে পরিমাপ না করা গেলেও একজন নির্দেশক হিসেবে কিন্তু আপনাকে অবশ্যই আচরণগত দিক দিয়ে হতে হবে নমনীয়। আর তাই দলনেতা হিসেবে মস্তিষ্কের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে হবে।

চিন্তাশক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার সুস্থ মস্তিষ্কের বিশেষণ। নিওরোসায়েন্টিস্ট Swart মনে করেন, ভালো ঘুম, যৌগিক খাবার গ্রহণ এবং পরিমিত ব্যায়াম মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে সহায়ক। অপরদিকে ভালো ঘুম না হওয়ার মস্তিষ্কের পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এছাড়াও নিওরোসায়েটিস্ট Swart  বলেছেন, একজন CEO র ভালো ঘুম, খাওয়াদাওয়া এবং বিশ্রামরত মস্তিষ্ক মানসিক স্থিতিস্থাপকতার জন্য এবং কর্মক্ষমতার শিখরে আরোহণের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন যা চাপ এবং হতাশামুক্ত রাখতে সাহায্য করবে। কর্মদক্ষতা এবং স্থিতিস্থাপকতার উন্নয়নের জন্য Sawat দলনেতাদের জন্য নিন্মোক্ত কিছু দিক বিবেচনা করতে বলেছেন।

১. নতুন অভিজ্ঞতা,শিক্ষা এবং কাজের সাথে খাপ খাওয়ানো

Swart এর মতে, আপনি জীবনে যা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তা মস্তিষ্ককে ঢালাই  এবং আকৃতি দান করছে আপনার নির্দিষ্ট আচরণ এবং শখগুলোর জন্য। বিজ্ঞান বিষয়টিকে নিওরোপ্লাস্টিসিটি বলে থাকে। নিওরোপ্লাস্টিসিটি হলো নিত্য নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন। অর্থাৎ একজন দলনেতা হিসেবে আপনাকে কিন্তু মস্তিষ্কের প্লাস্টিসিটি বাড়াতে হবে। নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে যেহেতু পুরোনো অনেক অভিজ্ঞতাই সবসময় আপনার  অনুকূলে থাকবে তা কিন্তু নয়। মনোযোগের সাথে নতুন কিছু করার অভ্যাসগুলো কিন্তু একজন দলনেতার মস্তিষ্ককে পুননির্দেশ দিতে পারে, নতুন কিছু ভাবতে এবং নতুন কিছু দিক নির্দেশনা দিতে। আপনার পুরোনো অভিজ্ঞতাগুলো ব্যব্যহারের অভাবে নির্জীব হয়ে যেতে পারে তাই নিত্য নতুন কাজ এবং অভিজ্ঞতা দ্বারা মস্তিষ্ককে যদি ঢালাই করে নেওয়া যেতে পারে। এতে সহজেই আপনার অধীনস্থদের সাথে কিন্তু আপনি একজন দলপতি হিসেবে  খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন।

যেহেতু আমাদের মস্তিষ্ক কেন্দ্রগত হয়ে থাকে যা আমরা করি এবং ভেবে থাকি, সেহেতু মস্তিষ্ককে বাধ্য করতে হবে নতুন কিছু অভিজ্ঞতার জন্য যাতে নিত্যনতুন আবিস্কারের সাথে দলনেতা হিসেবে আপনার ধারণা থাকে। এককথায়, যা আপনি শিখেছেন তা নয় বরং নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে মস্তিষ্কের নমনীয়তা বাড়াতে হবে। এতে মস্তিষ্ক সহজেই আবেগগুলো নিয়ন্ত্রণ করে, জটিল সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারবে।

source: chobibazar.com

২. দ্রুততার সাথে মস্তিষ্ককে কাজে লাগানো

যেকোনো সমস্যার দ্রুত সমাধান দিতে হলে আপনার মস্তিষ্ককে দ্রুত কাজে লাগাতে হবে। বিজ্ঞান বিষয়টিকে ব্রেইন এগিলিটি বলে থাকেন। মানে হলো মস্তিষ্ককে চটজলদি বিভিন্ন দিক ভাবার জন্য কাজে লাগাতে হবে, যৌক্তিক দিক থেকে শুরু করে অযৌক্তিক বিষয়গুলোও ভাবতে হবে। সমস্যার সমাধানের সবগুলো দিক নিয়ে ভাবাই একজন সফল দলনেতার বৈশিষ্ট্য। এগিলিটি বা দ্রুততার বিষয়টি উদ্যোক্তা হিসেবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়াও বিভিন্ন সমস্যাগুলোকে বিভিন্নভাবে পর্যোচলনা করার ক্ষমতা থাকতে হবে। নিওরোসায়েটিস্ট Swart এর মতে যারা, একসাথে অনেক কাজ আর একসাথে অনেকগুলো ভাবনায় থাকে সাধারণত তারা অন্য সবার থেকে কম কাজ করতে পারেন। আর তাই কাজগুলোকে ভাগ করে নিতে হবে এবং সমস্যার সমাধানের দিকগুলোকে একটার পর একটা করে কাজে লাগাতে হবে তারপর সমাধানের দিকে এগোতে হবে। এছাড়া দলনেতারা উদ্দ্যশ্যসাধনের জন্য দলের মধ্যে ভাবনাগুলো একইসাথে একবারে সংযুক্ত না করে ধীরে ধীরে সমাধানের দিকে এগোতে পারেন।

source: cobibazar,com

৩. নিজস্ব ভাবনারগুলো বিকশিত করা

যারা নির্দিষ্ট ভাবনার মানুষ তারা মনে করেন বুদ্ধিমত্তা এবং প্রতিভার মতো বৈশিষ্টগুলো অপরিবর্তনীয়। অর্থাৎ যার যতটুকু প্রতিভা আছে অথবা যে যতটুকু বুদ্ধিমত্তার অধিকারী সে তার চেয়ে বেশি প্রতিভাসম্পন্ন বা বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হতে পারবে না। তাদের ভাবনার জায়গাগুলো একটি জায়গাই আটকে থাকে। অপরদিকে যারা বিকশিত মনের অধিকারী তারা বিশ্বাস করেন বুদ্ধিমত্তাকে বিকশিত করলে কাজের উন্নয়ন হবে এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রতিভাকে বিকশিত করা সম্ভব।

নিউরোসায়েনটিস্ট Swart এর মতে, দলনেতা যারা নির্দিষ্ট ভাবনায় আটকে আছেন তাদের মস্তিষ্কের নিউরোপ্লাস্টিসিটি বাড়াতে হবে এবং ভাবনাগুলোকে বিকশিত করতে হবে। তবে উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ভাবনার বিকশিত হবার জায়গাগুলো নির্ভর করে ঝুঁকি নিতে তারা কতটুকু ক্ষুধার্ত আর ব্যর্থতাগুলোকে কিভাবে গ্রহণ করবে তার উপর।

source: chobibazar,com

৪. অযাচিত ভাবনাগুলোকে দূরে রাখা

অসম্ভব চাহিদাগুলোকে সীমিত মস্তিষ্কের উপর চাপিয়ে দিলে হতাশ হওয়ার ঝুঁকিই বেশি। যে কাজগুলো বা যে বিষয়গুলো করা প্রায় অসম্ভব সে বিষয়গুলো না ভেবে বরং কার্যকরী বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগী হতে হবে। নিওরোসায়েনটিস্ট Swart মনে করেন,  দলনেতাদের কাজের প্রতি মনোযোগী হতে হলে, এবং অহেতুক ভাবনাগুলোকে দূরে রাখতে হলে শরীরের প্রতি হতে হবে যত্নবান, পরিমিত খাবার গ্রহণ করতে হবে এবং সুচিন্তিত ভাবনাগুলোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে যাতে করে দুশ্চিন্তা করার হরমোনগুলো সংকুচিত হতে থাকে। আর একজন সফল দলনেতাকে অবশ্যই দুশ্চিন্তা এবং অহেতুক চিন্তাগুলো দূরে রেখে দলের সাথে একাগ্রতার সাথে কাজ করতে হবে

source: chobibazar.co

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here