ব্র্যাডম্যান-বোর্ডার-গ্রিনিজ-গাভাস্কার….মুমিনুল

0
2174
  • টেস্ট ইতিহাসে ৬৭তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি মুমিনুলের
  • সব মিলিয়ে ৮৩ জন খেলোয়াড় এই কীর্তি গড়েছেন
  • ১০ জন খেলোয়াড় দুই বা এর বেশিবার ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি করেছেন

৬৭ জন ব্যাটসম্যান ৮৩ বার এমন কীর্তি করে দেখিয়েছেন কথাটা বললে কেমন জানি তৃপ্তি আসে না। ৬৭ বা ৮৩ কোনোটাই সংখ্যা হিসেবে ছোট তো নয়। বাংলাদেশেরই কিছু ক্রিকেটারের টেস্টে এমন কীর্তি আছে যেগুলো কারও নেই। প্রথম ইনিংসে ‘২৪ রানের আক্ষেপ’ দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণভাবে ঘুচিয়ে দেওয়ার পর মুমিনুল হককে নিয়ে যে আবেগের তরঙ্গ বয়ে যাচ্ছে বিশাল প্রেসবক্সে; সেই আবহে বসে মুমিনুলের কীর্তিটাকে নিয়ে লিখতে বসে মনে হচ্ছে, যা-ই লিখি না কেন, কম হয়ে যায়।

সংখ্যায় বেশি মনে হলেও বেশি কিন্তু নয় মোটেও। টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি বলে কয়ে হয় না। শচীন টেন্ডুলকার তাঁর দুই যুগ আর ২০০ টেস্টের ক্যারিয়ারে একবারও পারেননি। জহির আব্বাস পারেননি একটুর জন্য। একই ম্যাচে সেঞ্চুরি আর নব্বইয়ের ঘরে আউট হওয়ার আক্ষেপে পুড়েছেন কলিন কাউড্রের মতো গ্রেট। এই তালিকায় আছেন সৌরভ গাঙ্গুলী থেকে এবি ডি ভিলিয়ার্স। টেস্টে ১১-১২ হাজার রানে করেও অনেকের মন জিততে না পারা চন্দরপল-কুকরা।
টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি সত্যিই বলেকয়ে হয় না। চট্টগ্রামে ২২৯৫তম টেস্ট চলছে। ম্যাচ সংখ্যায় গড়ে তিন শতাংশ ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি দেখেছে টেস্ট ক্রিকেট। মোসাদ্দেক আর মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে এখন পর্যন্ত টেস্টে ৫৯ হাজার ৩১৫ বার ব্যাট হাতে নেমেছে ব্যাটসম্যানরা। সেই হিসাবে ০.০১৩ শতাংশ বার করে এমনটা ঘটেছে।
এ তো নিরেট গাণিতিক হিসাব। এমন প্রব্যাবিলিটির তত্ত্ব মেনে কখনো কখনো জেসন গিলেস্পিরা নাইটওয়াচম্যান নেমে ডাবল সেঞ্চুরি করে ফেলেন। কখনো আবুল হাসান দশে নেমে অভিষেকে গড়েন সেঞ্চুরির বিশ্ব রেকর্ড। ক্রিস মার্টিন ছাড়া বোধ হয় সেঞ্চুরির সম্ভাবনা সব টেস্ট ক্রিকেটারের ব্যাটে ছিল। হুট করে কত অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটনা ঘটে যায়।
কিন্তু এই ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি করতে প্রতিভা লাগে। লাগে সেই প্রতিভা কাজে লাগানোর সামর্থ্য। স্কিল লাগে, টেম্পারামেন্ট লাগে। মুমিনুলকে উদাহরণ হিসেবেই নিন। প্রথম ইনিংসে ২১২ বলে ১৭৪ রানের ইনিংসটায় ৩৩০ মিনিট ব্যাট করেছেন। এরপর ২০০ ওভার ফিল্ডিং করেছেন। তারপর দু দণ্ড ড্রেসিংরুমে জিরিয়ে নিয়েছেন কি নেননি, দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬তম ওভারেই নেমে পড়তে হয়েছে মাঠে। এরপর একটুর জন্য ডাবল সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ ঘুচিয়ে ১৭৪ বলে করেছেন ১০৫। ব্যাট করেছেন ২৫২ মিনিট।
প্রতিভাই তাই এখানে শেষ কথা নয়। এখানে বাড়তি কিছু একটা লাগে, যেটার কারণে টেন্ডুলকারের চেয়ে এগিয়ে থাকেন ব্রায়ান লারা। মুমিনুলের আগে যে ৬৬ জন ব্যাটসম্যান এই কীর্তি গড়েছেন, তাঁদের প্রায় প্রত্যেকে একেকটি ইতিহাস।

ব্র্যাডম্যান, চ্যাপেল, বোর্ডার, গাভাস্কার, দ্রাবিড়, অরবিন্দ ডি সিলভা, কম্পটন, গুচ, গ্রিনিজ, হেডলি, লারা, হানিফ মোহাম্মদ, মিয়াঁদাদ, পন্টিং, সাঙ্গাকারা, সাটক্লিফ, লরেন্স রো, সোবার্স, ওয়ালকট, এভারটন উইকস, কানহাই, হেইডেন, হ্যামন্ড, জ্যাক ক্যালিস, আর্থার মরিস; বর্তমান সময়ের দুই সেরাতম প্রতিভা বিরাট কোহলি আর হাশিম আমলা।

এই নামগুলোর তালিকায় বসলেন কীর্তিমান মুমিনুল! যোগ্যতম মুমিনুল। আকারে তিনি যতই ছোট হন, ক্রিকেটীয় অর্জনের উচ্চতায় লকলকিয়ে বেড়ে উঠছেন। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ লিটল মাস্টার!

সেই ইনিংসও খেলেছেন কোন পরিস্থিতিতে? যখন দল হারের মুখে। যখন শেষ দিনের প্রথম সেশনে দুটি উইকেট পড়লেই বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে যাবে। ৮১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলার ধাক্কা শুধু সামলানইনি, মনে হচ্ছিল অন্য পাশে ব্যক্তিগতভাবে ভীষণ চাপের মুখে থাকা লিটন দাসকেও পথ দেখাচ্ছেন। মুমিনুল যতক্ষণ ছিলেন, লিটনের ব্যাটেও কী দ্যুতি!

দুজনের ১৮০ রানের জুটিতে বাংলাদেশ শুধু ম্যাচ বাঁচায়নি; প্রথম ইনিংসে নিজের অফস্টাম্প বুঝতে না-পারার শিশুতোষ ভুল করে বল ছেড়ে বোল্ড হওয়া লিটনের ক্যারিয়ারও লাইফ লাইন পেল। লিটনের কৃতিত্ব এতটুকু খাটো না করেও বলা যায়, মুমিনুল অন্য প্রান্তে থাকলে হয়তো লিটন আজ সেঞ্চুরিটাও পেয়ে যেতেন!

 

Source: Prothom Alo

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here